সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থায় নোট ও গাইডের প্রাসঙ্গিকতা শেষ হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ফলে প্রচলিত নোটবই ও গাইড বইয়ের প্রয়োজনীয়তা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। শুক্রবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষাক্রম মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা এবং ব্যবহারিক দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন এই পদ্ধতিতে পাঠ্যবই এবং শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাদানই মুখ্য হয়ে উঠেছে, ফলে বাজারজাত করা গাইড বইগুলো তাদের কার্যকারিতা হারিয়ে ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হওয়ার পথে। মন্ত্রীর মতে, শিক্ষার্থীরা যখন নিজের মেধা ব্যবহার করে সমস্যা সমাধান করতে শিখবে, তখন বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনো কৃত্রিম উত্তরের আর প্রয়োজন থাকবে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল কন্টেন্টের সহজলভ্যতা নোট-গাইড ব্যবসার ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরশীলতা কেবল চিন্তাশক্তিকে বাধাগ্রস্ত করে না বরং শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্যকেও ব্যাহত করে। সরকার শিক্ষকদের এমনভাবে প্রশিক্ষিত করছে যাতে তাঁরা শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীদের সব জিজ্ঞাসার সমাধান দিতে পারেন। এই রূপান্তরের ফলে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তৈরি গাইড বইয়ের বাজার সংকুচিত হওয়া সময়ের দাবি। মন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে হলে নোট-গাইডের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের মৌলিক পাঠ্যবই এবং গবেষণামূলক শিক্ষার প্রতি অনুরাগী করে তোলা জরুরি। শিক্ষাখাতের এই বিবর্তনই শেষ পর্যন্ত উন্নত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
