৩৫ বছর পর ব্যালটে হচ্ছে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ওইদিন জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচনে ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য।
৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট প্রার্থী ঘোষণা দেওয়ায় ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর আগে গত তিন দশকে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এ যাবৎ রাষ্ট্রপতি পদে ২২টি নির্বাচন হয়েছে। ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার পরিবর্তে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন-১৯৯১ করা হয়। এরপর থেকে সেই আইনের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। এই আইনের অধীনে প্রথম নির্বাচনে কেবল ভোটগ্রহণ হয়েছিল। এরপর আর হয়নি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণনার প্রক্রিয়া তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ইসির পক্ষ থেকে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স সরবরাহ করা হবে। সংসদ সদস্যরা সুবিধামতো যেকোনো একটি বাক্সে তাদের ব্যালট দিতে পারবেন।
ইসি সচিব বলেন, ২০ আগস্ট দুপুর ২টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টায় শেষ হবে। ভোট শুরুর সময় থেকেই অধিবেশন কক্ষের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে। সাংবাদিকদের জন্যও নির্ধারিত স্থানে বসার সুযোগ রাখা হবে। প্রতিটি ব্যালট পেপারে দুটি অংশ থাকবে—মুড়ি ও মূল ব্যালট। মুড়ি অংশে প্রার্থীর ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর ও স্বাক্ষরের ঘর থাকবে। মূল ব্যালটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে। ভোট দেওয়ার সময় সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে তার পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অধিবেশন কক্ষের ভেতরে ব্যালট বাক্সগুলোর সামনে ভোট গণনা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, চার থেকে পাঁচ সদস্যের একটি ব্যালট গণনা দল প্রাথমিকভাবে ব্যালটগুলো যাচাই ও গণনার কাজ করবে। মোট কতটি ব্যালট বৈধ বা বাতিল হয়েছে এবং কোন প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন—সেই তথ্য গণনা শেষে ঘোষণা করা হবে।
প্রাথমিক ফলাফল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন নির্বাচনকর্তা হিসেবে সরাসরি ঘোষণা করবেন। পরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের ২০ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের বিশেষ পরিচয়পত্রও দেওয়া হবে। নির্বাচনের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পন্ন করবে ইসি।
এর আগে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। পরে ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করা হয়।
