September 15, 2026

ডাকসুর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের জিন্নাহর ছবি, ছাত্রদলের কড়া প্রতিবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ঐতিহাসিক সংগ্রহশালায় ১৯৪৮ সালের পাকিস্তানের জনক মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মোজাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দাঁড়িয়ে জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অকুতোভয় ছাত্রসমাজ জিন্নাহর সেই চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে আমাদের রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়। যে ছাত্রসংসদ বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার, সেই ডাকসুর সংগ্রহশালায় সেই বিতর্কিত নেতার ছবি প্রদর্শন করা ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি সরাসরি অবমাননা।

ছাত্রদল উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে, ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, আবশ্যিক অধিকার আদায় ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে পুরোপুরি ব্যর্থ। শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত স্বার্থের তোয়াক্কা না করে তারা পরিষদটিকে নিজেদের সুনির্দিষ্ট দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তন করে ‘ইশরাত মঞ্জিল’ করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা থেকে শুরু করে ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি স্থাপন— এসব ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে, শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসুর পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি তাদের প্রচ্ছন্ন অনুরাগ ও পাকিস্তান প্রেম জাহির করছে।

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, অবিলম্বে ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি অপসারণ করতে হবে; ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনসহ ঢাবির প্রতিটি ঐতিহাসিক স্মারক ও চেতনাকে বিকৃত করার সব অপপ্রয়াস রুখে দেওয়া হবে। ১৯৪৮ সালে তৎকালীন উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার জিন্নাহর ঔদ্ধত্যপূর্ণ উক্তির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ যেভাবে গর্জে উঠেছিল, ঠিক তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল চেতনা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে যেকোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *