ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার চিরচেনা ঝুঁকি: ট্রেনের দরজায় ঝুলছেন ঘরমুখো মানুষ
নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার চিরাচরিত দৃশ্যে আবারও ফুটে উঠল এক চরম বিপজ্জনক চিত্র। আসন্ন ছুটিকে কেন্দ্র করে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে এক যাত্রী ট্রেনের দরজায় কোনোমতে ঝুলে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন। চরম ঝুঁকি নিয়ে এভাবে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি চলন্ত ট্রেনের দরজা থেকেই বলে ওঠেন, ‘ঝুঁকি আছে জানি ভাই, কিন্তু বাড়িতে তো যেতেই হবে।’ এই একটি বাক্যই যেন প্রকাশ করে দেয় প্রিয়জনদের সাথে উৎসব কাটানোর জন্য সাধারণ মানুষের ব্যাকুলতা এবং একই সাথে আমাদের গণপরিবহন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে।
প্রতি বছরই উৎসব-পার্বণে ঘরমুখো মানুষের এই ঢল নামে। বাস ও ট্রেনের টিকিট না পেয়ে অনেকেই নিরুপায় হয়ে জীবনের ঝুঁকি নেন। ট্রেনের ছাদে ওঠা কিংবা দরজায় বিপজ্জনকভাবে ঝুলে ভ্রমণ করার কারণে প্রতি বছরই ছোট-বড় বহু দুর্ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি এবং সচেতনতামূলক প্রচারণার পরেও এই ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। স্টেশন ছাড়ার মুহূর্তে ভিড় সামলাতে গিয়ে রেল পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে বেশ হিমশিম খেতে হয়।
ঈদ বা উৎসবের আনন্দ তখনই সার্থক হয় যখন প্রত্যেকে সুস্থ শরীরে পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারেন। জীবনকে এভাবে বাজি রেখে বাড়ি ফেরা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য গণপরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং টিকিট ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা আনা জরুরি। একই সাথে যাত্রীদেরও নিজের সুরক্ষার স্বার্থে সচেতন হতে হবে, কারণ সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।
