জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশে তিন বছর ধরে অকেজো হয়ে আছে আবহাওয়া রাডার
শুনতে বেমানান লাগলেও এটাই সত্যি যে, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের সমুদ্র সৈকতের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের আবহাওয়া রাডার
তিন বছর ধরে অকেজো হয়ে আছে। রাডারটির যন্ত্রাংশের কার্যক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট থেকে এটি অচল হয়ে পড়ে। ফলে সমুদ্র ও পর্যটন নির্ভর ঝুঁকিপূর্ণ এই উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস না পাওয়া সংকট মোকাবেলায় সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে। ২০২৪ সালে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বিষয়টি উত্থাপিত হলে সরকার ভবন অক্ষুণ্ন রেখে নিজস্ব অর্থায়নে নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয় করে রাডারটি পুনরায় চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।
বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকার আবহাওয়ার তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই যন্ত্র ৩ বছরে বেশি সময় ধরে অচল থাকায় দুর্যোগের আগাম তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা। প্রতিবছরই বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয় নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়। এসব দুর্যোগের গতিপথ, বৃষ্টিপাতের বিস্তার এবং আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন শনাক্ত করতে রাডারের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু স্থানীয় আবহাওয়া রাডারটি অচল থাকায় সেই সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখন কার্যত বন্ধ রয়েছে।
রাডার অচল থাকার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌযান ও জেলেদের ওপর। সাগরে আবহাওয়া দ্রুত খারাপ হয়ে গেলে পরিস্থিতি সম্পর্কে যত দ্রুত সম্ভব তথ্য পাওয়া এবং সতর্কতা জারি করা জরুরি। বিশেষ করে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা কোনো দুর্যোগের ক্ষেত্রে সময়ের এই ঘাটতি জীবন ও সম্পদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রাডার ষ্টেশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, রাডার অচল থাকলেও ভবনসহ স্টেশনটি পুরোপুরি ঠিক নয়। স্টেশনের রক্ষণাবেক্ষণে ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ১৮টি পদ ছিল। বর্তমানে রক্ষনাবেক্ষনের জন্য কর্মরত রয়েছে ৪জন। এটির ভারপ্রাপ্ত দ্বায়িত্বে রয়েছে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ। সমতল থেকে ১৬০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক রাডার স্টেশনটি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি অচল হয়ে পড়লে ২০০৭ সালে পুনরায় আবারও আধুনিকায়ন হয় এই রাডারটি। যন্ত্রাংশের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ২০২৩ সালের ৪ আগস্টে এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
