February 11, 2026

৩৫ বছরেই যে কারণে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক

এজেন্সি: সুস্থ থাকতে ওজন নিয়ন্ত্রণ কিংবা মাংসপেশি গঠনের জন্য অনেকেই এখন প্রোটিন-ভিত্তিক ডায়েট অনুসরণ করছেন। কেউ শুধুই মাংসজাত খাবারে নির্ভর করছেন, যাকে বলা হয় এক্সট্রিম কার্নিভোর ডায়েট। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ শরীরের জন্য যেমন উপকারী নয়, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে এটি হৃদযন্ত্রের জন্য ভয়ংকর হতে পারে।

ভারতের কার্ডিওলজিস্ট ডা. দিমিত্রি ইয়ারনভ জানিয়েছেন, অতিপ্রোটিন বা সম্পূর্ণ মাংসভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। তার অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অনেক তরুণ যারা বাইরে থেকে একদম ফিট— যেমন অ্যাথলেটিক বা সিক্স-প্যাক শরীরের অধিকারী, তাদের অনেকেরই রক্তনালি ভেতরে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলাফল: অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাক।

কীভাবে ক্ষতি করে অতিরিক্ত প্রোটিন

ডা. ইয়ারনভ ব্যাখ্যা করেন, দীর্ঘদিন অতিপ্রোটিন ডায়েট অনুসরণ করলে শরীরে দেখা দিতে পারে কয়েকটি গুরুতর জটিলতা—

খারাপ কোলেস্টেরল বেড়ে যায়
রক্তনালির আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়
দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি হয়
রক্তনালি সংকুচিত হয়ে রক্ত চলাচলে বাধা দেয়
তিনি বলেন, বাইরে থেকে শরীর যত ফিটই লাগুক, ভেতরে কিন্তু অসুখ বাসা বাঁধতে পারে। আমি ৩৫ বছর বয়সী তরুণদেরও হার্ট অ্যাটাকে মারা যেতে দেখেছি কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই। সিক্স-প্যাক শরীর তোমাকে হার্টের প্ল্যাক রাপচার থেকে বাঁচাতে পারবে না, যদি খাদ্যাভ্যাস তোমার রক্তনালি নষ্ট করে ফেলে।

সুস্থ থাকতে দরকার ভারসাম্যপূর্ণ ডায়েট

ডা. ইয়ারণভের মতে, সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি হলো ভারসাম্য। অতিরিক্ত কোনো ডায়েট নয়, বরং নিয়মিত ও পরিমিত খাবারই শরীরকে রাখবে সুস্থ ও শক্তিশালী। তিনি পরামর্শ দেন—

যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক ও সম্পূর্ণ খাবার খান
উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে গুরুত্ব দিন
নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করুন
তিনি বলেন, সুস্থ থাকা মানে শুধু বাইরে থেকে ফিট থাকা নয়, ভেতর থেকেও শরীরের যত্ন নেওয়া জরুরি। কোনো নতুন ডায়েট শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ অতিরিক্ত ভালোও কখনো কখনো বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *