নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা, অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে চাকরিপ্রার্থীদের হয়রানি
দেশের নিরীক্ষক, হিসাবরক্ষক ও নিরীক্ষা ফার্মগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিন্যানশিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলে (এফআরসি) কোনো স্থায়ী কর্মী নেই। ফলে নিরীক্ষার মান উন্নয়ন, আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা ও বিশ্বস্ততা নিশ্চিতে কাজ করা এই সংস্থাটি কার্যত স্থবির।
জানা গেছে, জনবল সংকট কাটাতে ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর ৫৭টি পদের বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল এফআরসি। লিখিত পরীক্ষা হয়েছিল ২০২৪ সালের ১১ মে, ফল প্রকাশ হয় একই বছরের ৩ জুন।
কিন্তু এফআরসি আগের নিয়োগ তো বাতিল করেইনি, বরং ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর আরেকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
এদিকে নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতায় তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের। তাঁদের অভিযোগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপের কারণেই ফলাফল আটকে রাখা হয়েছে। নিয়োগবিধি লঙ্ঘন করে এফআরসি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদে আত্মীয়-স্বজনদের বসিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটিতে এখনো পর্যন্ত কোনো স্থায়ী কর্মী নিয়োগ হয়নি। তাঁদের দাবি, অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করেনি অর্থ মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া এফআরসির মতো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়াও আইনবহির্ভূত। জানা গেছে, শুরু থেকেই এফআরসি ইন্টার্ন ও চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এসব চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীদের কেউ কেউ স্থায়ী হওয়ার আশায় আগের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বেনামি চিঠি দিয়েছেন, যা এফআরসি বা মন্ত্রণালয় যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করেনি।
সার্বিক বিষয় জানতে চাইলে এফআরসির নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগের নিয়োগ সরকার বাতিল করেছিল। নতুন করে নিয়োগ না করলে প্রতিষ্ঠান কিভাবে চলবে? আমরা আদালতের নির্দেশে আপাতত নিয়োগ বন্ধ রেখেছি। আদালত যেভাবে নির্দেশ দেবে আমরা সেভাবে এটাই করব।’
