অর্থ পাচার ও ব্যাংক জালিয়াতির মামলায় চট্টগ্রামে এস আলম ও তাঁর ভাইসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
চট্টগ্রামের একটি বিশেষ আদালত দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) এবং তাঁর ভাইসহ মোট ১১ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। কোটি কোটি টাকা ব্যাংক জালিয়াতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার শুনানি শেষে আদালত এই কঠোর আদেশ প্রদান করেন। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে ভুয়া ও কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি ব্যাংক থেকে বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়ে তা বিদেশে পাচার করেছেন, যা দেশের সামগ্রিক আর্থিক খাতকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তদন্তকারী সংস্থার একাধিক নোটিশ এবং সমন জারি করা সত্ত্বেও আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় এবং তদন্তে কোনো ধরনের সহযোগিতা না করায় আদালত তাঁদের পলাতক বিবেচনা করে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
আদালতের এই আদেশের পর চট্টগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসামিদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে এবং দেশের সবকটি বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকায় কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যাতে তাঁরা দেশত্যাগ করতে না পারেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে এই ধরনের বড় বড় ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণ করা হবে। অন্যদিকে, এস আলম গ্রুপের আইনজীবীরা এই মামলাটিকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলে দাবি করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সাধারণ নাগরিক এবং অর্থনীতিবিদরা আদালতের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, আর্থিক খাতের বড় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে সাধারণ আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা এবং দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ধসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
