জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে সৌরবিদ্যুতে জোর
জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাপের মধ্যে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব বাড়ছে। তুলনামূলক কম খরচে এবং পরিবেশদূষণ ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ থাকলেও এই খাতে এখনও পিছিয়ে দেশ।
পাবনার ভবানীপুরে পদ্মার চরে ৪০০ একর জমিতে ২০২৪ সালে চালু হয়েছে ১০০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র। দিনে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে কেন্দ্রটি। এখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়ছে প্রায় ১৩ টাকা। সেখানে ফার্নেস তেলভিত্তিক বিদ্যুতের খরচ ২৮ টাকার বেশি এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের খরচ প্রায় ১৫ টাকা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা ২৮ হাজার ৩৪৭ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সৌর, বায়ু ও পানিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৮৯ মেগাওয়াট। অর্থাৎ মোট সক্ষমতার মাত্র ৪ শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। ছাদভিত্তিক বিদ্যুৎ ধরলে এই হার প্রায় ৫ শতাংশ।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বারবার পিছিয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য থাকলেও তা পূরণ হয়নি। ২০২৫ সালেও সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি। ২০১০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৩ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গেছে মাত্র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দরপত্রের মাধ্যমে তুলনামূলক কম দামে কয়েকটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১১টি কেন্দ্রের জন্য চুক্তি করা হয়, যেগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৮১৮ মেগাওয়াট। নতুন সরকারও বড় আকারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একাধিক প্রকল্পে দরপত্র আহ্বান করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ বড় সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র তুলনামূলক কম সময়ে নির্মাণ করা সম্ভব। দেশের চর ও অনাবাদি জমি এবং সরকারি জমি ব্যবহার করে বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
তবে জমি, অর্থায়ন, সরঞ্জাম আমদানি এবং বিনিয়োগের নিশ্চয়তার মতো বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে নতুন প্রকল্পে বিদেশি অর্থায়ন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে চুক্তি হলেও কয়েকটি কেন্দ্র থেকে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে সৌরবিদ্যুতে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। ছাদভিত্তিক প্রকল্পের পাশাপাশি বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণেও গতি আনতে পারলে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য শক্তির ভূমিকা আরও বাড়তে পারে।
