September 28, 2026

ঢাকায় জাসদ কন্দ্রীয় প্রতিনিধিসভায় পুলিশী অভিযান, আটক ৩০০ জন

ঢাকার গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর প্রধান কার্যালয়ে – দলটির কন্দ্রীয় প্রতিনিধিসভা চলাকালে পুলিশ এক অভিযান চালিয়ে ৩০০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মিকে আটক করেছে। জাসদ কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মিরা একত্রিত হয়েছে, এমন তথ্যে অভিযান চালানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এই অভিযানে কতজন আটক হয়েছে প্রশ্নের জবাবে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর- রশিদ বলেন, আমি নির্দিষ্ট সংখ্যাটা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না, তবে সংখ্যাটা ২৮০ থেকে ৩০০ জনের কাছাকাছি হবে।

শনিবার দুপুর ৩টায় দলটির কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরপর একের পর এক প্রিজন ভ্যান এনে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা লোকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পল্টন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

উপকমিশনার হারুন জানান, “আমাদের কাছে একটি তথ্য ছিল, জাসদ এবং তাদের সাথে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে নাশকতা করার উদ্দেশ্যে অথবা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে এখানে জড়ো হয়েছে। এ সংবাদে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছ।’ পুলিশী অভিযান চলাকালে স্থানীয় ছাত্র-জনতা পুলিশকে সহায়তা করেছে। তারা আসলে কী উদ্দেশ্যে এখানে জড়ো হয়েছিলেন, তাদের কাছে কী কী তথ্য আছে এবং কী কী কর্ম তারা এখানে করেছেন, সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

উপকমিশনার হারুন জানান,’ ইতোমধ্যে তারা এখানে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছে মর্মে আমাদের কাছে কিছু তথ্য আছে।’

জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিকভাবে পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলেছে, তাদের ‘নিরাপত্তার স্বার্থে এবং পুরো ঘটনা যাচাই-বাছাইয়ের স্বার্থে’ তাদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

উপকমিশনার হারুন বলেন, “যাচাই বাছাই করে যার যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের নামে মামলা হবে বা আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না, তাদেরকে অন্য যে প্রক্রিয়া আছে, সে প্রক্রিয়ায় ছেড়ে দেওয়া হবে।

তিনি জানান, যারা পুলিশী হেফাজতে আছেন, এর মধ্যে সাংবাদিক আছেন কিনা বা অন্য পেশার কে আছেন, পুরা বিষয়টি পুলিশ যাচাই-বাছাই করবে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।

জানা যায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্য রয়েছেন।
তিনি নিজেই ফেসবুকে হ্যান্ডকাফ পরা একটি ছবি দিয়ে বলেছেন, আজ জাসদের প্রতিনিধি সভায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময় তাকে সহ অনেককে হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, তিনি জানেন না, তাকে জানানো হয়নি। তবে তখনও তিনি পল্টন থানায় ছিলেন। পরে ভোররাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে অভিযান শুরুর সময় জাসদ কার্যালয়ের ভেতরে অন্তত ৪০০ লোক থাকার তথ্য দিয়েছিলেন পল্টন থানার এসআই নাজমুল হোসেন এবং
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন।

জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন জানান, সারাদেশ থেকে আসা প্রায় সাড়ে তিনশ নেতাকে নিয়ে প্রতিনিধি সভা করার সময় দুপুর আড়াইটায় তাদের ওপর হামলা হয়েছে। প্রতিনিধি সভায় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মিরা হামলা চালায়। পরে পুলিশী অভিযান শুরু হয়।’

জানা যায়, দুপুর আড়াইটার দিকে জাসদ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মিরা। এসময় ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নকে বলতে দেখা যায়, “এখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মিরা গোপন বৈঠক করছে।”

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “এটা মিথ্যা কথা, আমাদের প্রতিনিধি সভা চলছিল। এখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মিরা আসবে কেন, একটা কিছু বলে আমাদের উপর আক্রমণ করাটাই বিষয়।”

তিনি দাবি করেন, যথাযথ পুলিশী অনুমিত নিয়েই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভা চলাকালে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মিরা ওইসভায় অনুপ্রবেশ করে অযাচিত হট্টগোল শুরু করে। পরে ৩টার দিকে পুলিশ এসে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মিদের জাসদ কার্যালয় থেকে বেরকরে দিয়ে জাসদ নেতাকর্মিদের আটক করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *