March 20, 2026

কোন সেমাইয়ের কদর বেশি চট্টগ্রামে!

ঘিয়ে ভাজা মিহি সাদা রেশমি সুতার মতো লাচ্ছা কিংবা বাদামি রঙের বাংলা সেমাই; ঈদ আয়োজনে কোনটি চট্টগ্রামবাসীর বেশি পচ্ছন্দের? এককথায় এর উত্তর মিলবে না। দুটি সেমাইয়ের রান্নার রেসিপি আলাদা। ঘিয়ে ভাজা লাচ্ছা সেমাইয়ে বাদাম কিশমিশ দেওয়া ঘন গরম দুধ দিলেই তৈরি। আর বাংলা সেমাই আগে অল্প আঁচে ঘিয়ে ভেজে নিতে হয়, এরপর বাদাম কিশমিশ সহযোগে ঘন দুধ ঢেলে দিতে হবে। স্বাদ আলাদা হলেও দুই রকমের সেমাইয়েরই কদর আছে। কেবল এই দুই রেসিপির কথা বাদ দিলেও সেইয়ের জর্দা, আরবের বাসবুসা বা বাকলাভা তৈরিতেও এই দুই সেমাইয়ের ব্যবহার রয়েছে।

চট্টগ্রামের বাজারগুলোয় বাংলা, লাচ্ছা দুই রকমের সেমাই বিক্রি হচ্ছে। খোলা ও প্যাকেটজাত অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে এসব সেমাই। গতকাল নগরের বহদ্দারহাট বাজারে কথা হয় বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুস সালামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঈদের দুই দিন আগে থেকে মূলত সেমাই-চিনি কেনার তোড়জোড় শুরু হয়। এখন লাচ্ছা সেমাইয়ের চল বেশি। তবে বাংলা সেমাইও নিয়েছি অল্প।’
একসময় হাতে তৈরি সেমাইয়ের কদর ছিল ঘরে ঘরে। তাই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট কারখানায় উৎপাদন করা হতো খোলা সেমাই। এখন সময়ের বিবর্তনে বাজার দখল করে নিয়েছে প্যাকেটজাত সেমাই।

নগরের বাজারগুলোয় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বছর ঈদের বাজারে প্যাকেটজাত সেমাইয়ের তেমন দাম বাড়েনি। গত বছরে মতো একই দামে বিক্রি হচ্ছে এসব সেমাই। তবে বাংলা সেমাইয়ের দাম (চিকন সেমাই) কিছুটা বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার লাচ্ছা ও চিকন—দুই ধরনের সেমাই এখন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। বাজারে বর্তমানে প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাইয়ের চাহিদাই বেশি। চালের গুঁড়া ও ময়দার তৈরি চিকন সেমাইয়ের চাহিদা কম। সব মিলিয়ে সেমাইয়ের চাহিদা অন্যান্য বছরের চেয়ে কম। মানুষ এখন বাংলা সেমাই বা চিকন সেমাই তেমন কেনেন না। তবু পুরোনো ব্যবসায়ীরা দোকানে এসব সেমাই রাখেন।

সারা বছর সেমাই বেচাকেনা হয় না তেমন। বছরে মোট বেচাকেনার ৯০ শতাংশই বিক্রি হয় ঈদের সময়। বড় বড় কোম্পানি সেমাইয়ের বাজারে আসার পর ছোট ছোট কোম্পানির সংখ্যা কমছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, বনফুল, কিষোয়ানসহ অনেক শিল্পগোষ্ঠী বর্তমানে সেমাই বাজারজাত করছে। চট্টগ্রাম নগরে চাক্তাই এলাকায় একসময় ৩৫টির বেশি সেমাই উৎপাদনকারী কারখানা ছিল। এখন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ থেকে ২০–এ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *