সৌদির সঙ্গে সংগতি রেখে দেশের বিভিন্ন জনপদে আগাম ঈদুল ফিতর উদ্যাপন
চাঁদ দেখার চিরাচরিত নিয়মের বাইরে গিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় আজ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হচ্ছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শরীয়তপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও বরিশালসহ দেশের অন্তত ১০ থেকে ১৫টি জেলার কয়েক শ’ গ্রামের মানুষ একদিন আগেই ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে একই দিনে রোজা রাখা এবং ঈদ উদ্যাপনের এই দীর্ঘদিনের রীতিটি তারা ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পালন করে আসছেন।
আজ সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোর ঈদগাহ ময়দান ও স্থানীয় মসজিদগুলোতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও মতলব উত্তর উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ স্থানীয় পীর সাহেবের অনুসারী হিসেবে এই ঈদ উদ্যাপন করছেন। নামাজ শেষে তারা কোলাকুলি ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেন। শরীয়তপুরের নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামেও সকাল থেকে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। একইভাবে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলার নির্দিষ্ট কিছু পাড়া এবং বরিশালের বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ ঈদুল ফিতর পালন করছেন।
এই আগাম ঈদ উদ্যাপনের পেছনে কাজ করে তাদের সুদৃঢ় ধর্মীয় যুক্তি। এসব এলাকার মুসল্লিদের মতে, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলেই ঈদ পালন করা ওয়াজিব। তারা স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার চেয়ে বৈশ্বিক চাঁদ দেখার খবরকেই বেশি গুরুত্ব দেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই গ্রামগুলোতে এভাবে ঈদ পালনের রেওয়াজ চলে আসছে, যা এখন তাদের একটি স্বতন্ত্র সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। সরকারিভাবে আগামীকাল সারাদেশে ঈদ উদ্যাপনের প্রস্তুতি থাকলেও, এই গ্রামগুলোতে আজকের দিনটিই ছিল উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু।
তবে ভিন্ন দিনে ঈদ পালন করলেও এই গ্রামগুলোতে উৎসবের আমেজে কোনো কমতি থাকে না। সকালে নতুন পোশাক পরে ছোট-বড় সবাই মিলে নামাজ আদায় করেন এবং বাড়িতে বাড়িতে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনও এসব এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত আয়োজনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। যদিও মূল ভূখণ্ডের সিংহভাগ মানুষের সাথে তাদের সময়ের একদিনের ব্যবধান থাকে, তবুও ধর্মীয় আবেগ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আজকের এই ঈদ উদ্যাপন ছিল আনন্দঘন ও উৎসবমুখর।
