পণ্যের হালাল সনদ প্রাপ্তিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ হিসেবে গাড়ি চাওয়ার অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ
বাংলাদেশে পণ্যের হালাল সনদ বা সার্টিফিকেট প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ হিসেবে বিলাসবহুল গাড়ি দাবি করার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা। রাজধানীর একটি অভিজাত মিলনায়তনে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সনদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট উপ-পরিচালক একটি নির্দিষ্ট বড় শিল্পগ্রুপের পণ্যের ছাড়পত্র দেওয়ার বিনিময়ে সরাসরি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য একটি নতুন ব্র্যান্ডের গাড়ি দাবি করেছেন। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে হালাল পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকায় তারা নিয়ম মেনে সনদের আবেদন করলেও, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি করে এবং নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রেখে দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় দেশের ব্যবসায়ী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে, কারণ হালাল সনদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও ধর্মীয় বিষয়ের সাথে জড়িয়ে পড়েছে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা দুর্নীতি। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, রপ্তানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে এই ধরনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অবিলম্বে অপসারণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় তারা সব ধরনের হালাল সনদের আবেদন প্রক্রিয়া বর্জনসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখতে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
