ঢাবির নতুন বাজেট ১ হাজার ৩৩ কোটি টাকা, গবেষণা খাতে ইউজিসির বরাদ্দ না থাকায় সংকট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই বাজেট উপস্থাপন করেন। এবারের বাজেটে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে গবেষণা খাতে; যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে কোনো ধরনের বিশেষ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বাজেট উপস্থাপনকালে কোষাধ্যক্ষ হতাশা প্রকাশ করে জানান, পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে উচ্চশিক্ষার এই শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে গবেষণার পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। যেখানে এশিয়ার শীর্ষ সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের মোট বাজেটের ১০ থেকে ২৫ শতাংশ মৌলিক ও ফলিত গবেষণায় ব্যয় করে, সেখানে ঢাবির গবেষণা খাতটি চরম অবহেলার শিকার হচ্ছে।
ব্যয়কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরাবরের মতোই প্রস্তাবিত বাজেটের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও পেনশন পরিশোধে। বেতন বাবদ ৩২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ভাতা খাতে ২২৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি। এছাড়া পণ্য ও সেবা খাতে ২২২ কোটি ৯৮ লাখ এবং পেনশনে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়ায় এবার শুরুতেই অন্তত ৮৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বিশাল বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে। এই অর্থায়নের ঘাটতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সমৃদ্ধকরণ, ল্যাবরেটরি আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের আবাসন ও কল্যাণের মতো জরুরি খাতগুলো মারাত্মকভাবে স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই আর্থিক সংকট কাটাতে কোষাধ্যক্ষ উন্নত বিশ্বের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমৃদ্ধ দান তহবিল (এনডাওমেন্ট ফান্ড), শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের (অ্যালামনাই) সক্রিয় অনুদানের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
