ফল-সবজিতে থাকা কীটনাশক কি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়?
ফল ও সবজি—স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবে যেগুলোর ওপর আমাদের নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি, সেগুলোতেই লুকিয়ে থাকতে পারে কীটনাশকের ঝুঁকি। ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসচেতনতার এই সময়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে—এই অবশিষ্ট রাসায়নিক কী দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ক্ষতি করছে, এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকি পুরোপুরি অস্বীকার করা না গেলেও সচেতন কিছু অভ্যাস মেনে চললে তা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কীটনাশক আসলে দুই ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে ক্ষতি করে। যে চাষিরা কীটনাশক প্রয়োগ করে ফসল ফলাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে যে ঝুঁকি, যারা সেই ফসল খাচ্ছেন, তাদের সেই ঝুঁকি নেই। ক্যান্সার চিকিৎসক জয়েশ শর্মার মতে, বিষয়টি দুইভাবে কাজ করে। কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর দিক রয়েছে। সেগুলো জানা দরকার। যারা সরাসরি কীটনাশকের সংস্পর্শে থাকেন, যেমন কৃষিকাজ বা কীটনাশক স্প্রে করা, তাদের ক্ষেত্রে লিউকেমিয়া বা লিম্ফোমার মতো ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্ক দেখা গেছে। যারা খাবার খাওয়ার মাধ্যমে কীটনাশকের সংস্পর্শে আসেন, তারা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
ডিডিটির মতো কিছু পুরোনো রাসায়নিক কীটনাশক (অর্গ্যানোক্লোরিন পেস্টিসাইড) বহু বছর মাটিতে থেকে যায়, শিকড় পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এমনকি খাবারের উপযুক্ত অংশেও সঞ্চারিত হয়। সেই কীটনাশক শরীরে গেলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে স্তন বা প্রজননজনিত ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে এই নির্দিষ্ট ধরনের কীটনাশক এখন আর ব্যবহৃত হয় না। তার বদলে যে কীটনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা কম ক্ষতিকারক। ৩ থেকে ১০ দিন ফসলে থাকে সেটি। আর সে কারণেই ফসল তোলার পর বাজার হয়ে যত দিনে আপনার ঘরে পৌঁছাচ্ছে, সেই কীটনাশকের প্রভাব কমতে শুরু করে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ খাবারের মাধ্যমে খুব অল্প পরিমাণ কীটনাশকের সংস্পর্শে আসেন, যা সাধারণত ক্ষতিকর মাত্রার নিচে থাকে।
তবে পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকছেন না কেউই। তাই ফলমূল-সবজি খাওয়ার সময়ে সতর্ক থাকা উচিত। আর তার জন্য প্রতিদিনের বাজারহাট এবং রান্না নিয়ে সতর্ক হতে হবে। চিকিৎসকেরা কিছু সহজ অভ্যাসের কথা বলছেন, যেগুলো মেনে চললে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।
